বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই জরিপ করেছে। ‘ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট’ শীর্ষক এই জরিপের ফল গত সপ্তাহে প্রকাশ করা হয়। সরকারি সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে পর্যটকের সংখ্যা ও ভ্রমণ ব্যয়ের পরিমাণ জানা এবং মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই জরিপ করা হয়। দেশে করোনার সংক্রমণ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঠিক আগে গত বছরের মার্চ মাসে জরিপের প্রক্রিয়া শুরু হয়। যাঁরা বাইরে কোথাও ঘুরতে গিয়ে এক রাতের বেশি সময় কাটিয়েছেন, তাঁদেরই জরিপে পর্যটক হিসেবে ধরেছে বিবিএস।
জানতে চাইলে এই জরিপ প্রকল্পের পরিচালক তোফায়েল আহমেদ বলেন, জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান কত, তা জানা ছিল না। জরিপের মাধ্যমে সেটি বের করা হয়েছে। তা ছাড়া জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) পর্যটন খাতের তথ্য দেওয়ার জন্যও জরিপটি করার দরকার ছিল।
জরিপের আলোকে বিবিএস বলছে, জিডিপিতে এখন পর্যটন খাতের অবদান ৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকা।
জরিপে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, ভ্রমণের জন্য ডিসেম্বর মাস তাঁদের বেশি পছন্দ। কারণ, এই মাসে পরিবেশ ও আবহাওয়া বেশি অনুকূলে থাকে। আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে। এরপর পছন্দের সময় জুন ও জানুয়ারি মাস।অঞ্চল ভিত্তিতে দেখা যায়, দেশ-বিদেশে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করেন সিলেট বিভাগের মানুষ। এই বিভাগের ১৭ শতাংশ খানার মানুষ ভ্রমণ করেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ মানুষ ভ্রমণ করেন রাজশাহী বিভাগের। তৃতীয় অবস্থানে আছে ঢাকা বিভাগ, যেখানকার ১৪ শতাংশ মানুষ ভ্রমণে বের হন। আর ভ্রমণে সবচেয়ে পিছিয়ে ময়মনসিংহের মানুষ, এখানের মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ ভ্রমণ করেন।
ভ্রমণে সিলেটের মানুষের এগিয়ে থাকার কারণ জানতে চাইলে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু তাহের মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, প্রবাসী-অধ্যুষিত হওয়ায় সিলেটের মানুষের আর্থিক অবস্থা অন্যদের তুলনায় ভালো। সে কারণে তাঁদের মধ্যে ভ্রমণের প্রবণতা বেশি। তা ছাড়া এ এলাকার মানুষের অনেক আত্মীয়স্বজন বিদেশে থাকেন। তাই এখানকার মানুষ দেশের বাইরেও বেশি ঘুরতে যান।
বিবিএস বলছে, বাংলাদেশে পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে আছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ পর্যটক বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতটিতে ঘুরতে পছন্দ করেন।
বিবিএস দৈবচয়নের ভিত্তিতে দেশের মোট পাঁচ হাজার খানার ওপর জরিপটি করেছে। এর মধ্যে শহরাঞ্চলের ২ হাজার ৩৯০টি খানা ও গ্রামাঞ্চলের ২ হাজার ৬১০টি খানা।


0 Comments